1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 7, 2026, 4:20 am

পঞ্চগড়ে পরীক্ষামূলক কালো ধানের চাষে কৃষকের নতুন সম্ভাবনা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Monday, October 26, 2026
  • 82 দেখা হয়েছে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে ব্যতিক্রমী কালো ধান বা ব্ল্যাক রাইস। উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের জায়গীরজোত এলাকায় কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম নিজের ১০ শতক জমিতে এই ধানের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু করেছেন। অনলাইনে এই ধানের গুণাগুণ ও চাষের বিষয়টি দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন এবং পরে ৫০০ টাকা কেজি দরে বীজ সংগ্রহ করে রোপণ করেন। বর্তমানে ধান গাছগুলো পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে শীষের রং কালো হয়ে গেছে, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। শান্ত আরও বলেন, শুনেছি এই ধানের চালের ভাত খেলে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ হয়।

নিজ জমিতে এমন ভিন্নধর্মী ধানের ফলন দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম।

তিনি জানান, ধানগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এর পুষ্টিগুণ নিয়েও তিনি আশাবাদী। বিশেষ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এই ধানের চাল কার্যকর বলে তিনি শুনেছেন। সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই জাতের ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার। তার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষক শাহজাহান আলী ও তাবলু জানান, এমন সুন্দর ও ব্যতিক্রমী ধান আগে কখনও দেখেননি তারা, আগামী মৌসুমে তারাও এই চাষাবাদে যুক্ত হতে চান। নতুন এই ধান দেখতে অনেকেই ধানক্ষেতের পাশে ভিড় করছেন।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, কালো চাল উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও থাকে বেশি। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরামর্শ কাজে লাগিয়ে কৃষকদের লাভবান করার লক্ষ্যেই কাজ করছে কৃষি বিভাগ। বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরুর আগে এর উৎপাদন খরচ, ফলন এবং বিক্রির নিশ্চয়তা যাচাই করা হচ্ছে। এই ধরনের বৈচিত্র্যময় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকার ও কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় গবেষণাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কালো জিরা ধানের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। ভৌগোলিক কারণে এই জেলার মাটি এবং আবহাওয়া ভিন্ন হওয়ার কারণে অর্থকরী ফসলে লাভবান হতে পারছে না চাষিরা। উৎপাদন বাড়লে বাজারদরের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসাদ্দেকুর রহমান জানান, কৃষকের এই পরীক্ষামূলক আবাদের ফলন এবং লাভের হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি এই অঞ্চলে কালো ধানের উৎপাদন লাভজনক প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক হারে এই ধান চাষের জন্য উৎসাহিত করা হবে। ভৌগোলিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন দিগন্তের সন্ধানে তেঁতুলিয়ার কৃষকদের এই প্রচেষ্টা এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রচলিত ধানের বাইরে নতুন এই ধান আবাদ ঘিরে কৌতূহলের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ফলন ও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে কালো ধান তেঁতুলিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনের সিজনে অবশ্যই কালো ধান আবাদ করব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira