1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 4, 2026, 4:07 am

খুলনায় ১২ দিনে সাত ঘটনার নেপথ্যে মাদক ও আধিপত্য

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Tuesday, November 3, 2026
  • 14 দেখা হয়েছে

খুলনা মহানগর ও জেলা এলাকায় গত ১২ দিনে সাতটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটির পেছনে মাদক কারবার, লেনদেন এবং আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এই সাতটি ঘটনার মধ্যে চারজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন এবং দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। খুলনায় ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে যুবদলের দুই নেতাসহ তিনজনকে গুলি। খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ১০ মাসে ৭১ খুন, পেছনের কারণ কী। খুলনায় সকালে যুবদল নেতাকে, সন্ধ্যায় দোকানিকে গুলি।

সর্বশেষ সোমবার দুপুরে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় আঠারোবেকী নদীর চরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন রূপসার রাজাপুর এলাকার আবদুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০)।

পুলিশের ভাষ্যমতে, দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে রাখা হয়েছিল। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, মেহেদী হাসানের নামে দুটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। নিহত অপর যুবক রেজাউল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং মাদকের বাহক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা স্থানীয় ‘বি কোম্পানি’ নামক একটি অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মাদক কারবারের বিরোধ এই দুইয়ের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। আরাফাতকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। পরে সহযোগীদের নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সড়কের ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এজাহারে ‘বি কোম্পানি’র সদস্য শহিদুল ইসলাম ওরফে সেজান, সাকিবুর রহমান ওরফে জিতু এবং রাব্বি চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় নগরের রায়েরমহল এলাকায় নিজ রেস্তোরাঁয় কুপিয়ে হত্যা করা হয় খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে। এই ঘটনায় তাঁর ছেলে সৈয়দ নুর আমিন সৌহার্দ্য বাদী হয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি রেফ্রিজারেটরের বকেয়া কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হামলা হয়েছে, তবে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে নগরের লবণচরা এলাকা থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শহীদুল নিজেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ছিল। তাঁর মা বাদী হয়ে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছেলের মৃত্যুর দাবি করে মামলা করেছেন। এর আগের দিন গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরা এলাকায় দরগা কাশেমিয়া মসজিদ-সংলগ্ন সড়ক থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দু-তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন শহীদুল। এর আগে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়িতে এসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বের হন তিনি।

এছাড়া ২২ অক্টোবর নগরে পৃথক ঘটনায় তাওহিদুল ইসলাম এবং খুশি আক্তার নামের এক নারী খুন হন। পুলিশের তথ্যমতে, তাওহিদুল ‘পলাশ গ্রুপের’ সদস্য ছিলেন এবং খুশি আক্তার গ্রেনেড বাবু গ্রুপের হয়ে মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যের লড়াইকে দায়ী করছে পুলিশ। যদিও এসব মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এজাহারভুক্ত আসামি সিদ্দিক শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোর বাইরে গত ২৫ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা এলাকায় বকেয়া ভাড়া চাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বাড়িওয়ালার লাঠির আঘাতে রকিবুল ইসলাম (২৪) নামের এক ভাড়াটে নিহত হন। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালা ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত মহানগর এলাকায় ৩৭টি মামলায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। জেলা পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের একই সময়ে ৩৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় আরও অন্তত ৩৫টি হত্যাচেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় খুলনা অঞ্চলে এই হত্যাকাণ্ডের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকাতেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira