ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন—উভয় ধরনের প্রকল্প থেকেই গ্যাস সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করছে।
এর আগে কাতার তাদের নিজস্ব ‘রাস লাফান’ এলএনজি রপ্তানি কমপ্লেক্স থেকে গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ করার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি বাজারের সমীকরণ বদলে যাওয়ায় দেশটি নতুন করে কৌশল সাজাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এসব কার্যক্রম মূলত স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কাতার তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে গ্যাসের সরবরাহ চেইন যে ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই কাতারএনার্জি এই নতুন উদ্যোগের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির এই কৌশলগত পরিবর্তন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply