গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো জ্বালানিসমৃদ্ধ সৌদি আরব, সামরিক শক্তিতে বলীয়ান তুরস্ক এবং পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন পাকিস্তান। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে একটি অভিন্ন মঞ্চে একত্রিত হয়েছে। এই জোটের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এটি কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আরও ৬-৭টি মুসলিম দেশ এতে যোগ দিতে আগ্রহী।
নতুন এই চুক্তিতে ন্যাটোর ‘পঞ্চম অনুচ্ছেদ’-এর আদলে পারস্পরিক সহায়তার নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, জোটের কোনো এক সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের দমনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোটের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। সেই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায়, এবারের মক্কা চুক্তি কতটা সফল হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘আরব’ বা ‘মুসলিম ন্যাটো’ গড়ার পরিকল্পনার প্রতিফলন থাকতে পারে। লন্ডনভিত্তিক মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে ১৯৫৫ সালের ‘বাগদাদ চুক্তি’র কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডালেসের উদ্যোগে গঠিত সেই জোটে জর্ডান ও মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি ইরাক ও ইরানও পরবর্তীতে সেই মার্কিনপন্থি জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ মাসাদের মতে, মক্কা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার পুরনো কৌশলই নতুন মোড়কে ফিরে আসছে কি না, তা দেখার বিষয়।
বর্তমানে মক্কা জোটের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি কেবলই একটি ভূ-রাজনৈতিক মরীচিকা, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনে এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক দেশের সঙ্গে অন্যদেশের ভৌগোলিক সীমানা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই চুক্তির নানা দিক নিয়ে সরগরম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্ববাসী ইতোমধ্যে জেনে গেছেন—মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে জন্ম নিয়েছে ‘মুসলিম ন্যাটো’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ, নিয়ম অনুসারে ন্যাটো জোটের এক সদস্য দেশের ওপর আঘাতকে যেমন সব দেশের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য হয়, তেমনি মক্কা জোটেও এক সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবাই জানেন যে, ১৯৪৯ সালের তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই যুদ্ধকালীন মিত্র তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে সামরিক দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউরোপের মিত্র দেশগুলো নিয়ে ‘উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা’ বা ন্যাটো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নবগঠিত মক্কা জোটের উদ্দেশ্য এখনো অনেকের কাছে ‘পরিষ্কার’ নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কথা হয়ত অনেকের মনে আছে যে—আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে, ২০১৫ সালের মার্চে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দমন করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইস্তান্বুলে মক্কা জোটের প্রথম বৈঠক থেকে যা জানা গেল।
Leave a Reply