ভারতে জেন-জি আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন প্রজন্মের স্কুলশিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে, যা ‘জেন আলফা আন্দোলন’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ অন্তত ১০টি রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। এই বিক্ষোভ কেবল ভারতের শিক্ষা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের সমর্থন ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এটি একটি নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি বছরের জুনের শুরু থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার জেন-জি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহিতা দাবি করেন। এই অনিয়মের কারণে বহু তরুণ শিক্ষার্থী চরম হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে তাদের বিদেশি মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়ে। বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সংকট এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি’র নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলনে শিক্ষাসংস্কারের দাবি তোলায় অনেককে মারধরের শিকার হতে হয়। শেষ পর্যন্ত জনরোষের মুখে মোদি সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
বর্তমানে সামুহি ভাটপুরওয়ার মতো স্কুলপড়ুয়ারা শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের সরাসরি প্রশ্ন করার সাহস দেখাচ্ছে, যা ভারতের রক্ষণশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বিরল। ভারতের বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থায় ১৫ লাখ স্কুলে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, যার ৭০ শতাংশই সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি অডিট অনুযায়ী, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতি ২৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা বলা হয়েছে। সরকারি তথ্যে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার কমার দাবিও করা হয়েছে।
তবে ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক শিক্ষা অধিকারকর্মী নাগসিমহা রাও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শিশুরা এখন তাদের মৌলিক অধিকারের দাবি জানাচ্ছে। সরকারি স্কুলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। রাওয়ের মতে, এসব স্কুলে মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরাই পড়াশোনা করে, আর তাদের প্রতি অবহেলাই এই আন্দোলনের মূল কারণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুল কেন্দ্রীয়, রাজ্য বা স্থানীয় সরকার পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল একের পর এক আলোচিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা শিক্ষক ও কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের প্রশ্ন করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেন জির বিক্ষোভের পরপরই শুরু হওয়া এই নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে ‘জেন আলফা আন্দোলনের’ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকি স্কুলগুলো পরিচালিত হয় দাতব্য সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেরও উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
Leave a Reply