পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র চর হেয়ার থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল প্যাদার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এই বালু ব্যবহার করে তিনি নিজের মাছের ঘেরের বাঁধ নির্মাণ করছেন এবং তা বিক্রিও করছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, চর হেয়ারের সমুদ্রসৈকতের বালুচর থেকে ট্রলারযোগে বালু তোলা হচ্ছে। ভিডিওতে ট্রলারের স্টাফ মঞ্জু বিশ্বাসসহ কয়েকজন শ্রমিককে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। একটি ট্রলার পূর্ণ হওয়ার পরপরই আরেকটি ট্রলার বালু সংগ্রহের জন্য সেখানে নোঙর করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাইদুল প্যাদা রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে মারধর ও হয়রানিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্টের পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলাকালে রাঙ্গাবালী থানা-পুলিশ তাকে আটক করেছিল। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি সেই সময় ছাড়া পেয়ে যান।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রলারের স্টাফ মঞ্জু বিশ্বাস প্রথমে জানান, সাইদুল মেম্বারের মাছের ঘেরের বাঁধ নির্মাণের জন্য বালু নেওয়া হচ্ছে। তবে পরে তিনি নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করে দাবি করেন, মাছের ঘের নয়, বরং গরুর ঘর তৈরির জন্য এই বালু নেওয়া হয়েছে। তবে বালু বিক্রির বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এদিকে, চরমোন্তাজ বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, তিনি সাইদুল মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মেম্বার বালু নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য সাইদুল প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে কেবল জানান, সন্ধ্যায় দেখা করবেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগের সুযোগ হয়নি। অন্যদিকে, রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং ২৫ আগস্ট অফিসে যোগ দেবেন। নাজমুল হাসান আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে খোঁজ নিয়ে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৫ তারিখ অফিস করব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে জায়গা থেকে বালু নেওয়া হয়েছে, সেটি এখন ভরাট হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো বিষয় সম্পর্কে না জেনে আমি কিছু বলতে পারি না।
Leave a Reply