1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 8:13 am

লোডশেডিংয়ের কবলে মৌলভীবাজারের চা-শিল্প: উৎপাদন ব্যাহত ও গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, August 21, 2026
  • 33 দেখা হয়েছে
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে নষ্ট হচ্ছে চা পাতা ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি, বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মৌলভীবাজারের চা-শিল্প বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সারা দেশের ১৭৩টি চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯৩টি বাগান। কিন্তু বর্তমানে এই শিল্পে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি চায়ের গুণগত মানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাগানগুলোতে দিনে ও রাতে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

চা পাতা সংগ্রহের ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তা ৭০ থেকে ৮০ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। ফ্যাক্টরি ম্যানেজার বাবু জামাল উদ্দিন, মিস্ত্রি রুস্তুম হোসেন, ইলেকট্রিশিয়ান ধীরেন সিংহ এবং পাতা সর্দার মিলন ও রোদন ভৌমিক জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ড্রায়ার মেশিন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় প্রচুর পাতা নষ্ট হচ্ছে এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতিও অকেজো হয়ে পড়ছে। পাত্রখলা চা বাগানের ফ্যাক্টরি ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ ফারুকী সিয়াম জানান, এই পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি যন্ত্রপাতির ক্ষতি বাগান মালিকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, আবাসিক গ্রাহকদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদনের চেষ্টা করা হলেও তাতে পুরো ফ্যাক্টরি চালানো সম্ভব হয় না, ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া চা বাগানের জন্য আলাদা ফিডার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিকে শ্রীমঙ্গল টি ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএমএন মুনির জানান, সরকার নিলামে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য চায়ের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি ২৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও, গুণগত মান ধরে রাখতে না পারায় অনেক বাগান সেই দাম পাচ্ছে না। এতে বাগানগুলোর আর্থিক সংকট তীব্র হচ্ছে এবং শ্রমিকদের মজুরি ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি স্বপন কুর্মি এবং সর্দার সুপারভাইজার হারুন উর রশিদসহ শ্রমিক নেতারা জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানিমুখী ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। চা বাগানগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়িত। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকরা অতিরিক্ত রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নারীরাও পাতা তোলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বাগান ম্যানেজার ইউসুফ খানসহ সংশ্লিষ্টরা বারবার বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে ধরনা দিলেও কোনো সুফল মিলছে না।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার ঘোষ জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, ডানকান ব্রাদার্সের কিছু বাগানে আলাদা ফিডার থাকলেও সব বাগানের জন্য তা করা সম্ভব হয়নি। তবে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ভবিষ্যতে আলাদা ফিডার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে চা বাগানগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এবং সরকার রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ ভাগ লোডশেডিং করে চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় এ ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সবুজ চা পাতা থেকে তৈরি কালো বা গ্রিন পাতা দিয়েই দেশের নাম ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই সোনালি স্বপ্ন আজ ডুবে যাচ্ছে অন্ধকারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবার ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে পড়েছে চা-শিল্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর সঙ্গে মিশে আছে শ্রমিক-মালিকদের স্বপ্ন ও রুটি-রুজি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর তেল খরচ বেশি হওয়াতে বাড়ছে উৎপাদন খরচও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira