দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬ আগস্ট, রবিবারের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০১ জন শিশু এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে অথবা এর উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ৮০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ১ হাজার ২১ জন শিশু বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ জন। সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসে হাম ও সমজাতীয় উপসর্গে মোট ৯০৮ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই দীর্ঘ সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭ জনে, যার মধ্যে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৯৬৩ শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন করে আক্রান্তের হার এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপ থামছেই না।
Leave a Reply