1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 6:24 am

প্রবাসী আয় বাড়াতে হুন্ডি ঠেকাতে নতুন কৌশল জরুরি

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Thursday, August 13, 2026
  • 126 দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয় বা ওয়েজার্নাস রেমিট্যান্স। সভ্যতার সূচনা থেকেই উন্নত জীবন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার সন্ধানে মানুষ দেশ থেকে দেশান্তরে পাড়ি জমিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক অভিবাসন ও প্রবাসী আয়ের সুবিধা গ্রহণ করে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই, কারণ সরকার চাইলেই দেশের মুদ্রা ছাপাতে পারে কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা ছাপানো সম্ভব নয়। কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, নিরাপদ আশ্রয়, উন্নত জীবনের প্রত্যাশা কিংবা নব আবিষ্কারের নেশাসহ প্রভৃতি কারণে সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ একস্থান থেকে অন্যস্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে। আর এই রেমিট্যান্স এসব দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৭ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি প্রবাসী বিদেশে কর্মরত আছেন বলে ধরে নেওয়া যায়। এই প্রবাসী কর্মীরা যদি প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ মার্কিন ডলার করে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠাতেন, তবে বার্ষিক মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ হওয়ার কথা ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সম্ভাব্য আয়ের মাত্র ৪০ শতাংশ। এর থেকেই স্পষ্ট যে, অর্ধেকের বেশি বা ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স এখনো হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ পথে দেশে আসছে। এখান থেকে সহজে অনুমান করা যায় যে, বাকি ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স দেশে পাঠানো হচ্ছে হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে। হুন্ডি রেট সংগ্রহের জন্য স্ব স্ব দেশে অবস্থিত বাংলাশে দূতাবাস অথবা বাংলাদেশি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোনো রেমিট্যান্স হাউজ থাকলে তাদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সরকার বর্তমানে রেমিট্যান্সের ওপর ২.৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করলেও, বাস্তবে প্রবাসী আয় আশানুরূপ হারে বৃদ্ধি পায়নি। এই পরিস্থিতির উত্তরণে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৪০ শতাংশ থেকে ৭০ বা ৮০ শতাংশে উন্নীত করতে হলে প্রতিটি দেশের হুন্ডি রেট পর্যালোচনা করে সেখানে টাকা-ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, ইতালি ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে আলাদা আলাদা রেট দিতে হবে, যা হবে হুন্ডি রেটের চেয়ে আকর্ষণীয়। তবে, এই সংখ্যায় ফিরে আসা ব্যক্তিরে তথ্য অন্তর্ভুক্ত নয়।

এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় হুন্ডি রেট নিয়মিত মনিটর করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে প্রতিদিনের বিনিময় হারের পরিবর্তন মাথায় রেখে রিপোর্ট প্রণয়ন করতে হবে এবং এগ্রিগেটর থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স দেশভিত্তিক আলাদা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এতে প্রতিটি ব্যাংক তাদের রেমিট্যান্স ক্রয়ের গড় হার (ওয়েটেড এভারেজ রেট) নিরূপণ করতে পারবে, যা আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে ডলারের সঠিক দাম নির্ধারণে সহায়ক হবে। যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন দেশের রেট ভিন্ন ভিন্ন হবে, সেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশভিত্তিক রেমিট্যান্স আহরণের রিপোর্ট প্রণয়দের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যে ডলার ক্রয়ের বিষয়টি ৩ থেকে ৫ বছরের বেশি সময় চালানো সমীচীন নয়, কারণ এটি অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ৩-৫ বছরের সময়কালকে কাজে লাগিয়ে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে, প্রবাসীদের কল্যাণে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ব্যাংক রেট কিছুটা কমলেও তারা বৈধ পথই বেছে নেন। এছাড়া বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন দেশে বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে প্রবাসীর কল্যাণে দেশে এবং প্রবাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ চালু করতে হবে যা তারা ৩-৫ বছর পর রেট কম থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করবে।

যদি সব প্রবাসী ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। এর ফলে আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকবে, ট্রেড গ্যাপ বা বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে, টাকার মান শক্তিশালী হবে এবং দেশ থেকে অর্থ পাচার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira