আগামী দিনের একটি সুশাসিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের দূরদর্শী নেতৃত্বকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গত ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ কনফারেন্সে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই একটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তরুণদের দেশের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে ইতিবাচক উপায়ে কাজে লাগাতে পারলে প্রত্যাশিত দেশের রূপায়ণ সম্ভব। ২০০৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে পিছিয়ে পড়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, উদীয়মান এই যুবসমাজকে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে আবার বিশ্বমানে উন্নীত করা যাবে। উচ্চশিক্ষার জন্য তরুণরা বিদেশে গেলেও পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতার ইতি টানার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, তরুণরা যদি তাদের মেধা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে ব্যবহার করতে পারে, তবেই কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপায়ণ সম্। তরুণ সমাজ সর্বদাই সামাজিক মর্যাদা এবং সমতার সুযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছে। দুর্ভাগ্যবশত ২০০৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এই পিছিয়ে পড়া দেশকে তরুণদের সাথে নিয়ে নতুন করে বিশ্বের দরবারে বিশ্বমানের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অতীতে সব বড় বড় আন্দোলনে তরুণরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) চূড়ান্ত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই ছিলেন তরুণ। গণতান্ত্রিক চর্চা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে তরুণদের সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও অপরের যুক্তি বোঝার মানসিকতাই একটি সুদৃঢ় নেতৃত্বের মূল পরিচয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি রোধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন।
দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা ২০০টির বেশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।
Leave a Reply