ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি মার্চ মাসের মাত্র ২৪ দিনেই দেশে প্রায় ২৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ২৪ দিনে মোট ২৭৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা প্রতি ডলার ১২২ টাকা বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৩৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত ডিসেম্বরে, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার। শুধু গত ২৪ মার্চ একদিনেই দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় এই প্রবাহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি উল্লেখ করেন, প্রণোদনা বা অর্থপাচার রোধ—যে কারণেই হোক, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আশাব্যঞ্জক। তার মতে, চলতি বছর মোট রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করতে পারে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
উল্লেখ্য, সদ্য বিদায়ী ২০২৪ সালে দেশে মোট ২ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই বছরের মাসভিত্তিক আয়ের চিত্র ছিল নিম্নরূপ: জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার, মার্চে ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার, এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার, মে মাসে ২২৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার, জুনে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ, জুলাইতে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার, আগস্টে ২২২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার, নভেম্বরে ২১৯ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি সময় সংবাদকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে গভর্নর ড।
Leave a Reply