মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ বা নতুন কোনো ‘ওয়ার্কফোর্স রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম ৩.০’ (আরটিকে ৩.০) চালুর বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। নথিবিহীন প্রবাসীদের নথিভুক্ত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, আরটিকে ৩.০ চালুর বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জনসাধারণকে এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যের জন্য শুধুমাত্র জেআইএম-এর অফিসিয়াল পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কেউ যেন আরটিকে প্রোগ্রামের নাম ব্যবহার করে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হওয়া আরটিকে ২.০ কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ কর্মসূচিতে কতজন অভিবাসী বৈধতা পেয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি, তবে অভিবাসন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই রিক্যালিব্রেশন তালিকার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪ লক্ষাধিক শ্রমিক এতে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। তবে নানা জটিলতার কারণে অনেক অবৈধ বাংলাদেশি এই প্রক্রিয়ার সুবিধা নিতে ব্যর্থ হন। কর্মসূচির অধীনে কঠোর সরকারি শর্তাবলি মেনে যোগ্য নিয়োগকারীরা বৈধভাবে তাদের কর্মীদের নিয়োগ করতে পেরেছিলেন।
অন্যদিকে, গত বছরের ১ মার্চ থেকে ‘অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি’ (পিআরএম) পরিচালনা করেছিল মালয়েশিয়া সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানার বিনিময়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ২ লক্ষাধিক প্রবাসী নাম নিবন্ধন করেছিলেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার নানা জটিলতায় অনেকে ফিরতে না পারায় প্রবাসীরা এখন উভয় দেশের সরকারের প্রতি কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং পুনরায় বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply