1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 7:53 am

৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ: বড় অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Thursday, August 20, 2026
  • 55 দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই বিশাল ঋণের মধ্যে ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এবং ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়বদ্ধতা।

ঋণের এই দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বাজেট পর্যবেক্ষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা ‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস সতর্ক করে বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই ঋণ কেবল সরকারি নথিপত্রে সীমাবদ্ধ নেই; এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ছে। তিনি আরও জানান, ১৯৮১ সালে প্রথম ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে যে সময় লেগেছিল, তার তুলনায় এখন ঋণের গতি ভয়াবহ। ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়নে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ মাসের কম। গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির ঋণের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।

ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা এবং কর ও ব্যয়ের অসামঞ্জস্য বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার দায়িত্ব নেন, তখন ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের দুই মেয়াদে এখন পর্যন্ত মোট ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বেড়েছে। এর মধ্যে প্রথম মেয়াদে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে এ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। অন্যদিকে, জো বাইডেনের চার বছরের শাসনামলে সরকারি ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। উভয় প্রেসিডেন্টের আমলেই কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় নেওয়া জরুরি কর্মসূচিগুলো ঋণ বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই যায় বাধ্যতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে, যার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার), নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসা এবং সাবেক সেনাসদস্যদের কল্যাণমূলক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রতিবছর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুদ পরিশোধের ব্যয় প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটকে ছাড়িয়ে যায়। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সুদ পরিশোধের ব্যয় মেডিকেয়ারের মতো বড় স্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যয়কেও অতিক্রম করেছে।

বাজেট ঘাটতির চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। গত জুলাই মাসে এক মাসেই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৩২ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের ঘাটতি গত পুরো ২০২৫ অর্থবছরের মোট ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে। শুল্ক থেকে রাজস্ব আয় হ্রাস এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অবসর ও স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের অবসর গ্রহণ এবং বেতন ও আয়কর থেকে আসা রাজস্বের অপ্রতুলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

মায়া ম্যাকগিনিস মনে করেন, সরকার যত বেশি ঋণ নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বাড়বে এবং বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় সংকোচনের চাপ তৈরি হবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, আইনপ্রণেতারা যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে দেশটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় এই উচ্চ ঋণ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যয় যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, সে তুলনায় করছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় অনেক কম হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এক বড় ধরনের আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে টের পাওয়া যায় এবং ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অর্ধেকের বেশি বেড়েছিল তাঁর মেয়াদের শেষ ৯ মাসে, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ের কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira