1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 10:19 am

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ: বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, September 11, 2026
  • 34 দেখা হয়েছে

খসড়া সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন বিধান জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই খসড়া আইনটি ঢেলে সাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার—এই তিনটি ভিন্নধর্মী ও জটিল বিষয়কে একই ছাতার নিচে আনা হয়েছে। এতে কোনোটিরই যথাযথ গুরুত্ব রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বরং এই আইনের অস্পষ্টতা ও উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যার সুযোগ থাকায় তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধের সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় যুক্ত করা বৈশ্বিক চর্চার পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খসড়া আইনটিতে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর বা রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর শব্দগুলোকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এসব অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যাখ্যা করে ভিন্নমত দমন ও টার্গেটেড অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হবে। এছাড়া ‘সেক্সটর্শন’ বা ‘যৌনহয়রানি’র মতো বিষয়গুলোকে অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করায় প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ধারা-৪৬(২)-এর অধীনে ধারা-২৩-এর অ-জামিনযোগ্য অপরাধের তালিকাটি ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা বাকস্বাধীনতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে ২৮ জন সদস্য থাকলেও সেখানে বেসরকারি পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুইজনের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই কাউন্সিল সরকারের কর্তৃত্বাধীন থাকায় কোনো ধরনের জবাবদিহি ছাড়াই আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ করতে পারবে। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কাউন্সিল পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

আইনের অধীনে দায়মুক্তি সংক্রান্ত ধারাগুলো নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, কাউন্সিল সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সরল বিশ্বাসে’ কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিধানটি আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান হওয়ার মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। এমন আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের সাইবার জগত একটি জবাবদিহিহীন ও নিপীড়নমূলক ভূখণ্ডে পরিণত হবে।

বিবৃতিতে টিআইবি আরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নাগরিকদের সাইবার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এই খসড়া আইনটি সংশোধন করা জরুরি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আইনটি ঢেলে সাজালেই কেবল জনগণের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সংস্থাটি মনে করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাছাড়া ধারা-৪৬(২) এ অ-জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধারা-২৩ এর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাসহ বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অধিকন্তু, ‘যৌনহয়রানি’ ও ‘সেক্সটর্শন’ ইত্যাদি শব্দবন্ধকে এমন অপেশাদার ও অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করে অভিযুক্তের সুরক্ষা আর ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই দুইজন আবার সরকারকর্তৃক মনোনীত হবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira