বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেকোনো ধরনের মীমাংসা বা রিকনসিলিয়েশন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সরকারের পক্ষে কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। রাজনৈতিক মীমাংসার বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের কোনো দ্বিমত নেই এবং ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে এই আলোচনা অনেকবার হয়েছে। তিনি মনে করেন, যারা এখনো বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাদের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বোঝাপড়া বা রিকনসিলিয়েশন হওয়াটা আসলে একটি ভালো আইডিয়া হতে পারত। তবে এ ধরনের আলোচনার জন্য যে ন্যূনতম পরিবেশ ও ভিত্তি প্রয়োজন, তা এখনো তৈরি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল—এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। তিনি আরও বলেন, ‘রিকসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কথা বলছি না। যারা এদেশে আছেন, এদের মধ্যে একটা পারসেন্টেজ, পারসেন্টেজটা কত। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না। কোন ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে রিকসিলিয়েশন হয়। ফান্ডামেন্টালটা, আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি, কী হয়েছিল আসলে।
মীমাংসার শর্ত নিয়ে বলতে গিয়ে উপদেষ্টা সাউথ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দলের বা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার প্রধান শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট দলের করা অপরাধের দায় স্বীকার করা এবং অনুশোচনা প্রকাশ করা। অপরাধের দায় স্বীকার করলেই ফৌজদারি অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয় না, বরং আইনের পথে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতেই হয়। ডা. জাহেদ উর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দলটি এবং তাদের প্রধান নেত্রীর কার্যক্রম হতাশাজনক। তিনি বলেন, আমরা অবাক হয়ে দেখছি, ওই দল ও তাদের প্রধান নেত্রী এখনো সরকারকে হুমকি দিচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে যখনই কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন, তখনই তারা বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের অসহযোগিতামূলক ও হুমকি প্রদর্শনের সংস্কৃতির কারণে সরকারের পক্ষ থেকে মীমাংসার কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। মূলত অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুশোচনা না আসা পর্যন্ত এবং ক্রমাগত হুমকির এই প্রেক্ষাপট বজায় থাকলে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
Leave a Reply