এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের জন্য ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর এই পরাজয়ে আসর থেকে পদক ছাড়াই বিদায় নিতে হচ্ছে লিটন দাসের দলকে। আইচি–নাগোয়ায় আয়োজিত এবারের গেমসে উশুতে পাওয়া ব্রোঞ্জই বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে রইল। লিটন যদিও বারবার বলেছিলেন, আগে ফাইনালে উঠতে চান তাঁরা।
ম্যাচের শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে বেশ চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। ১০ ওভার শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৫১ রান। তবে সেখান থেকেই দৃশ্যপট বদলে দেন থারিন্দু রত্নায়েক। তিনি ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেন। লিটন দাস জানান, রত্নায়েকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের বিপরীতে বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় জানা ছিল না। লিটন বলেন, কৃতিত্ব তাকেই দিতে হয়, কারণ তিনি অসাধারণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন।
নিজের পারফরম্যান্স এবং দলের ব্যর্থতা নিয়ে অকপট অধিনায়ক লিটন দাস। আগের ম্যাচে ২ রান করার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রানেই বিদায় নিয়েছেন তিনি। নিজের খেলা নিয়ে লিটন স্বীকার করেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। দলের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, হার নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই, আসলে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এলেও সেমিফাইনালে ব্যর্থতার পর ব্রোঞ্জ জেতার সুযোগটিও হাতছাড়া হয়েছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে হতাশা আছে লিটনেরও, ‘খুবই খারাপ (ফল হয়েছে)। সেটা যখন হয়নি, আরেকটা (ব্রোঞ্জ জেতার) বিকল্প ছিল। নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও অধিনায়কের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘আমার পারফরম্যান্স নট আপ টু দ্য মার্ক। এমন স্বীকারোক্তির পর তাঁর অধিনায়ক হিসেবে পদত্যাগ নিয়েও প্রশ্ন হয়।
অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন লিটন। তিনি বলেন, ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকা স্বাভাবিক, একদিন ভালো হবে তো অন্যদিন খারাপ, তাই এখানে পদত্যাগের কোনো কারণ নেই। লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল খালি হাতে ফেরায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সালাহউদ্দীন। এবারের আসরে পদক পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
Leave a Reply