1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
October 7, 2026, 7:25 pm

ইমরান ও নওয়াজ: ক্রিকেটের মাঠের বন্ধুত্ব যেভাবে রাজনীতির বৈরিতায়

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Tuesday, October 6, 2026
  • 14 দেখা হয়েছে

ক্রিকেট মাঠের সেই পরিচিতি ও বন্ধুত্ব একসময় রূপ নিয়েছিল পাকিস্তানের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পর্কের বৈরিতায়। ইমরান খান এবং নওয়াজ শরীফ—দুজনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন কেউই তাদের সাংবিধানিক মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। ক্ষমতার পালাবদলে এই দুই নেতাকে নানা বিতর্কিত মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে, এমনকি দুজনই কারাবরণ করেছেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তাদের বিচারের রায় প্রদানকারী বিচারকও ছিলেন একই ব্যক্তি। পুরোনো লাহোরে বসবাসকারী নওয়াজ শরীফ ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান।

তাদের এই বন্ধুত্বের গোড়াপত্তন হয়েছিল আশির দশকে। লাহোরের জামান পার্ক এবং সারায়ি সুলতান চকের দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার হলেও, তাদের বেড়ে ওঠা আর ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ তাদের কাছাকাছি নিয়ে আসে। ১৯৭১ সালে ইমরান খান পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা করে নেন। যদিও নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার মূলত ক্লাব পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য হওয়ার পেছনে জামিল রানার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নওয়াজ ও তার ভাই শাহবাজ শরীফের ক্রিকেট প্রতিভা ও আগ্রহের কথা শুনে ক্লাবের সম্পাদক মেজর শরীফের সহায়তায় তারা সদস্যপদ লাভ করেন। ক্রিকেট ছিল তাদের পরিচয়ের অন্যতম সূত্র। জামিল রানা জানান, একবার তিনি নওয়াজ শরীফের বাবা মিয়া মুহাম্মদ শরীফের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তারা ক্রিকেট খেলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা জানেন না, তবে তাদের ব্যবসা ভালো। এরপর তাদের দুটি সদস্যপদ ফর্ম দেওয়া হয়।

সাংবাদিক পি জে মীর ও সাবেক কোচ মুদাস্সির নাজার জানিয়েছেন, নওয়াজ শরীফ বিদেশ থেকে আনা উন্নত মানের ক্রিকেট সরঞ্জামের প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন। সেই সময়েই লন্ডনের ক্রিকেট মাঠ কিংবা লাহোরের জিমখানায় নিয়মিত যাতায়াতের সুবাদে ইমরান খানের সঙ্গে নওয়াজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। যদিও শুরুর দিকে সেই সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না, বরং পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছোঁয়াও তাতে ছিল। আশির দশকের মাঝামাঝিতে এসে তারা নিজেদের পেশার শীর্ষে আরোহণ করেন; ইমরান ১৯৮২ সালে জাতীয় দলের অধিনায়ক হন।

১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচে নওয়াজ শরীফের উপস্থিতি ছিল বেশ নাটকীয়। তৎকালীন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নওয়াজ নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে কেবল প্যাড ও টুপি পরে ভিভ রিচার্ডসের মতো ভয়ংকর বোলারের মোকাবিলা করতে নেমেছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে ইমরান খান রীতিমতো উদ্বেগে ছিলেন, তবে নওয়াজ দ্রুতই বোল্ড হয়ে গেলে পরিস্থিতির অবসান ঘটে।

নওয়াজ শরীফের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনেও ইমরান খানের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের আগে নওয়াজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শওকত খানম হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ ও অনুদান দিয়ে ইমরানকে বড় সহায়তা করেছিলেন। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের অনুষ্ঠানে নওয়াজ প্রকাশ্যেই ইমরানকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইমরান জানান, তাকে দুবার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তিনি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) গঠন করেন।

রাজনীতিতে আসার পর তাদের সম্পর্কের মেরুকরণ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মুশাররফের সামরিক অভ্যুত্থানে নওয়াজ সরকারের পতন ঘটলে, ইমরান শুরুতে তা সমর্থন করলেও পরে তাদের অবস্থান পাল্টে যায়। ২০০৭ সালে লন্ডনে নওয়াজের সঙ্গে ইমরানের বৈঠকে মুশাররফবিরোধী আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। তারা ‘অল পার্টিজ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট’-এর মতো জোটেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। আবার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠতার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে।

ইমরান অভিযোগ করেছিলেন, নওয়াজ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন পরামর্শ করে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা ছিল তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। পরবর্তী বছরগুলোতে নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে নিজের অবস্থান শক্ত করেন ইমরান। ২০১১ সালে লাহোরের বিশাল জনসভার পর পিটিআই এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর এই বৈরিতা তীব্র আকার ধারণ করে, যদিও ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাদের যোগাযোগের ছিটেফোঁটা তখনও অবশিষ্ট ছিল।

পরবর্তী সময়ে নওয়াজ ও ইমরান—উভয়ই তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এমনকি ইমরান তার শাসনামল শেষ হওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বাজওয়া উভয়কেই দায়ী করেন। এভাবে দুই বন্ধু সময়ের পরিক্রমায় একই রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হন, অনেকটা নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর সেই ঐতিহাসিক ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’ সই করার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল তাদের ক্ষেত্রেও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira