বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দ্বীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসা শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তারা দুজনে কথা বলার সময় কয়েকজন লোক ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই তার এই বক্তব্যটি খতিয়ে দেখছে।
পিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকাটি মাদক কারবারিদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। সেখানে মাদক কারবারিদের ধাওয়ায় পড়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন। দ্বীপের দেওয়া এসব তথ্য ও ঘটনার নানা পারিপার্শ্বিক দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ওই এলাকায় মাদকের স্পট রয়েছে বলে পরিচিতি আছে। তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্যসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরত্বে অবস্থিত টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে পিবিআই নিশ্চিত করে যে, উদ্ধার হওয়া গাড়িটি নিখোঁজ তাহসিফ সাউরিরই ছিল।
এই মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মূল মামলাটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ছায়াতদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং নৌ পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। তদন্তে উঠে আসা যাবতীয় তথ্য ও আলামত পরবর্তীতে নৌ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ছায়া তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী সময়ে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের জন্য কেনাকাটা করার পর সন্ধ্যার দিকে দ্বীপ নামের ওই জুনিয়রের ফোনে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মঙ্গলবার রাত থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হয়। নৌ পুলিশ বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে তার দেহ উদ্ধার করে। সে সময় পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। উক্ত ফোনের সূত্র ধরেই তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়।
Leave a Reply