ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন হ্যারি কেইন। পুরস্কারটির ৭০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন ব্যবধানের জয়। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের ভোটের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশের পর দেখা গেছে, ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ৪০ জনেরই প্রথম পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইন। মোট ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে উঠে আসেন তিনি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পে সংগ্রহ করেছেন ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট, যেখানে ২৩টি দেশের সাংবাদিক তাঁকে প্রথম স্থানে রেখেছিলেন। ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পর জানা গেছে, ১০০ দেশের সাংবাদিকের মধ্যে ৪০ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন কেইন। দ্বিতীয় হওয়া এমবাপ্পের ঝুলিতে জমা পড়েছে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট; ২৩ দেশের সাংবাদিক তাঁকে রেখেছেন প্রথম স্থানে।
তালিকায় ৮৮১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, যাকে ১৩টি দেশের সাংবাদিক প্রথম পছন্দ হিসেবে ভোট দেন। তাঁর চেয়ে ১৫৫ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ৭২৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি, যার পক্ষে প্রথম স্থানসূচক ভোট পড়ে ১০টি দেশ থেকে। পঞ্চম স্থানে থাকা লিওনেল মেসি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পানামা, বেলারুশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীন—এই ছয়টি দেশের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রথম পছন্দের ভোট পান।
প্রকাশিত ফলাফলে বেশ কিছু আকর্ষণীয় তথ্য উঠে এসেছে। বিজয়ী হ্যারি কেইনকে কেবল মেক্সিকো ও আইভরি কোস্টের প্রতিনিধিরা তাদের সেরা দশের তালিকায় রাখেননি। অন্যদিকে গ্রিস, স্কটল্যান্ড ও ইউক্রেনের ভোটারদের সেরা দশে জায়গা পাননি এমবাপ্পে। আর বেলারুশ, ক্যামেরুন, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসের সাংবাদিকদের সেরা দশের তালিকায় অনুপস্থিত ছিলেন ইয়ামাল। গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে এবার সপ্তম স্থান অধিকার করলেও কোনো দেশের প্রথম পছন্দ হতে পারেননি, তবে সাতটি দেশ তাঁকে দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়। একইভাবে আর্লিং হলান্ডও কোনো প্রথম স্থানসূচক ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন।
নারী বিভাগে অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস তাঁর সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ ইভা পাযোরকে ৮৬ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড গেন। ৫০ জন বিচারকের মধ্যে ২৮ জনের প্রথম পছন্দ হয়ে পুতেয়াস পান ৬১৮ পয়েন্ট, যেখানে পাযোর ৫৩২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হন। এই বিভাগে ৩৪৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন খাদিজা শ।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি মৌসুমের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে ভোট প্রদান করেন সাংবাদিকরা। ভোটদান প্রক্রিয়ায় প্রথম পছন্দের জন্য ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় পছন্দের জন্য ১২ এবং তৃতীয় পছন্দের জন্য ১০ পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে। এভাবে সেরা দশে থাকা খেলোয়াড়দের অর্জিত পয়েন্ট যোগ করেই বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। ফলে শুধু প্রথম পছন্দের সংখ্যা নয়, সামগ্রিক পয়েন্টের যোগফলই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে। ২০২২ সাল থেকে চালু থাকা নিয়মে জাতীয় দলের বদলে মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় ভোট দেন সাংবাদিকেরা।
Leave a Reply