শরতের আগমনে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন সাদা কাশফুলের শুভ্রতায় ঢাকা পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন চরে এই কাশফুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে কাশফুলের এই প্রাচুর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে শীতল হাওয়া আর কাশফুলের দোলা দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন চরাঞ্চলগুলোতে। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর চরাঞ্চল জুড়ে দৃশ্যভরা ছেয়ে গেছে কাশফুলে। তারা চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ দৃশ্য সেলফি তোলারও হিড়িক পড়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই এ কাশফুলের দৃষ্টি কাড়ে চোখে। এ দৃশ্য দেখেও শেষ হয়না কাশফুল প্রেমিদের মনে। এমনকি তারা যমুনার পাড় থেকে নৌকা ভ্রমণের সঙ্গে কাশফুলের ছোঁয়া ও সেলফি তুলতেও সে এক অন্যরকম আনন্দে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও অনেক কাশফুল প্রেমিরা এ সৌন্দর্য বাগানে হারিয়েও যায়।
দর্শনার্থীরা সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৩ নম্বর চাইনা বাঁধ, কাজিপুরের মেঘাই নৌবন্দর, তেকানি বাঁধ এবং শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্কসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সময় কাটাতে পছন্দ করছেন। যমুনার পাড়ে অনেকে নৌকাভ্রমণের পাশাপাশি কাশফুলের সান্নিধ্য উপভোগ করছেন। তরুণ-তরুণীসহ ভ্রমণপিপাসুরা এখানে এসে ছবি ও সেলফি তুলছেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে। কাশফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চরাঞ্চলকে যেন একটি দর্শনীয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করেছে, যেখানে অনেকেই প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় হারিয়ে যান।
এই প্রাকৃতিক দৃশ্য ও শীতল বাতাস উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেলে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান ও কাজিপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, পর্যটকদের বাড়তি ভিড় এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যমুনা পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শরতের কাশফুলকে কেন্দ্র করে যমুনার এই চরাঞ্চল এখন ভ্রমণপিপাসুদের এক বিশেষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। আর প্রেমিক প্রেমিকারা এ কাশফুলকে সাক্ষি রেখে গভীর ভালবাসা স্থাপন করছে।
Leave a Reply