ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বজনদের কাছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে প্রায় ২৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসের সর্বোচ্চ আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বুধবার (২৬ মার্চ) এই মাইলফলক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মার্চের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মোট ২৭৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর আগে ডিসেম্বরে প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসে রেকর্ড গড়েছিল। গত ২৪ মার্চ একদিনেই দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, প্রণোদনা ও আর্থিক খাতের নজরদারির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ গতিশীল হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি বছরে মোট রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
চলতি বছরের আগের দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল বেশ ভালো; জানুয়ারিতে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার। বছরটির বিভিন্ন মাসে এই প্রবাহ ছিল যথাক্রমে: জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার, মার্চে ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার, এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার, মে মাসে ২২৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার, জুনে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ, জুলাইতে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
এছাড়া আগস্টে ২২২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার, নভেম্বরে ২১৯ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। প্রবাসীদের এমন ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply