রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে প্রায় নয় বছর আগে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালু হয়নি। তিনতলা বিশিষ্ট এই কেন্দ্রে সব ধরণের অবকাঠামো ও আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল এবং ওষুধের অভাবে এটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এক্সপ্লেইনার / যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ভাটার টান। ৯ বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়নি কলিমহর মা ও শিশু কেন্দ্রে। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা তাছলিমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, বাড়ির পাশে হাসপাতাল থাকার পরও সেবা না পাওয়ায় অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ২০ কিলোমিটার দূরের পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। এটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে খেলতে কীভাবে রাজি হলো ব্রাজিল, জানালেন নেপথ্যের কারিগর। তাছলিমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাড়ির পাশের এই হাসপাতালে যদি চিকিৎসাসেবা পেতাম, তাহলে আমাদের দূরে যেতে হতো না।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৫০ শতক জমির ওপর ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিম এর উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রটিতে ১০ শয্যার হাসপাতাল, আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, অপারেশন থিয়েটার এবং আবাসিক কোয়ার্টারসহ সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ের ৪০ শতাংশ পদ শূন্য / স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার পদে দ্রুত নিয়োগে সরকারের উদ্যোগ। মিয়ানমারে স্থল নিম্নচাপ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত।
গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা, সিজারিয়ান অপারেশনসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুদিন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এখানে রোগী দেখেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষে কোনো যন্ত্রপাতি নেই এবং ফার্মেসিতেও কোনো ওষুধ মজুদ নেই। ২৪ ঘণ্টা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুদিন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সেখানে রোগী দেখেন।
পাংশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে দুজন মেডিকেল অফিসার, চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ মোট জনবল থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ছয়জন কর্মী থাকলেও তাদের অনেকেই নিয়মিত আসেন না। নিরাপত্তা প্রহরী ও ওয়ার্ডবয় কোয়ার্টারে থাকলেও অন্য পদের কর্মীরা অনুপস্থিত থাকেন।
হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানা ও আয়া লতা রাণীর কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, লতা রাণীকে উপজেলা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং শহিদুল ইসলাম নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২৭ মাস ধরে বেতন না পেয়ে কাজে আসছেন না। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীদের বেতন বন্ধ থাকায় সেবার মান নেমে এসেছে।
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আবুজার জানান, তিনি মাছপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে দুদিন এখানে আসেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগী আসার সংখ্যাও কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিক মল্লিকের অভিযোগ, হাসপাতালের উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক এলাকায় সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে এলাকাবাসী সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কলিমহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিলকিস বানু বলেন, হাসপাতাল ভবনের অবকাঠামো থাকলেও বাস্তবে কোনো সেবাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন স্বীকার করেন যে, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় চিকিৎসক এখানে থাকতে আগ্রহী নন। তিনি জানান, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট নিয়ে কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোন্দকার সফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু এই কেন্দ্র নয়, সারা দেশেই জনবল সংকটের কারণে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একই দশা। রোগীর সংখ্যা ভালো হওয়া সত্ত্বেও জনবল না থাকায় কেন্দ্রটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
Leave a Reply