ফেসবুকে ধর্ম অবমাননামূলক ভিডিও প্রচারের অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সন্ধ্যায় একদল লোক তাদের বসতবাড়িতে চড়াও হয় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি মূল্যবান সামগ্রী ও ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় টেলিভিশন ভাঙচুর এবং রান্নাঘরেরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সোমবার দিবাগত রাতে উত্তেজিত লোকজন ওই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি পরিবারের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে পীরগঞ্জে উত্তেজনা দেখা দেয়। হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবসহ বিভিন্ন মাল তছনছ করে।
এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এক সদস্য, যেখানে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার গুজিপাড়া এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মকিমপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম দফাদার বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত যুবককে সোমবার গভীর রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সুনামগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক যুবক পুলিশের মামলায় কারাগারে।
ঘটনার পর রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে যথাযথ আইনি সহায়তা ও পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
Leave a Reply