1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 5:59 am

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগাম পানিশূন্য সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, November 6, 2026
  • 18 দেখা হয়েছে

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর কার্তিকের শেষ পর্যন্ত হাওরে পানি থাকে এবং নভেম্বরের শেষের দিকে বোরো চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এবার অক্টোবরের শেষেই পানি নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ হাওরের বোরো বীজতলা শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছায়ার হাওর, দেখার হাওর, শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও গুরমার হাওরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বীজতলা এখন খাঁ খাঁ করছে; যে মাঠে চারা গজানোর কথা, সেখানে এখন গবাদিপশু চড়ানো হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা।

সেচ সংকটের কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। শুকনো জমি নরম ও চাষযোগ্য রাখতে মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ দিতে প্রতি কেয়ারে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। শাল্লার কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, ফেটে যাওয়া বীজতলার চারাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে কীটপতঙ্গের আক্রমণ ও ফলন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া অসম্ভব। একই উপজেলার আব্দুস সাত্তারের ভাষ্য, এই পরিস্থিতির কারণে প্রান্তিক কৃষকরা দিনমজুরে পরিণত হচ্ছেন। কৃষি পেশা রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ধান উৎপাদন কম হলেও যদি ধানের ন্যায্যমূল্য বাড়ানো হয়, তবেই কেবল এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি দ্রুত শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। মেশিনে পানি দিয়ে জমি নরম রাখার চেষ্টা করছি, এতে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। নতুবা কৃষি কাজ ছেড়ে ঢাকা গিয়ে রিকশা চালাতে হবে। কৃষিকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আগে কার্তিক মাসেও বৃষ্টি হতো, আর এখন কাটফাটা রোদ।

পাকনার হাওরের কৃষক সিরাজুল হক ওলী জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিহীনতায় সময়মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্যও মিলছে না। তিনি হাওরে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, খরা ও অনাবৃষ্টির বিষয়ে কৃষকদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। পানির উৎস থাকলে সেখান থেকে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, কৃষকরা ডিপ টিউবওয়েলের দাবি জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তা বসানো সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন কৃষি পেশাটাই হারিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ এবং ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধানের ন্যায্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধার স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira