গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রকাশিত তালিকা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও এনসিপির নেতাকর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিতরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যোগসাজশে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলা প্রশাসন ৬৬ জন তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজারের তালিকা প্রকাশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন। মিছিলের সময় ইউএনওর কক্ষের জানালা ও বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন। তার দাবি, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রদলের যেসব সদস্য পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তাদের কাউকে তালিকায় রাখা হয়নি। তিনি আরও বলেন, দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে তারা অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম সরকারও দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করে সরকারি সম্পদ নষ্টের নিন্দা জানিয়েছেন। ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে মৌখিক পরীক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ৬৬ জন তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে দেখা হতো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দৈনিক আমার সংবাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি তৌহিদুর রহমান তুহিন। তিনি জানান, ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় ও মারধর করা হয়।
অন্যদিকে, এনসিপির গাইবান্ধা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান আরিফ দাবি করেছেন, তাদের দলের কোনো নেতাকর্মী ভাঙচুর বা সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন না। তিনি এই ঘটনার দায় অন্য দলের ওপর চাপিয়েছেন।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
Leave a Reply