কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে খুলনার গুরুত্বপূর্ণ জিরো পয়েন্টকে ‘নজরুল চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রোববার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত নজরুল বর্ষ উদযাপন বিষয়ক বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। সভায় নজরুল সম্পর্কে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে প্রায় পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। তবে আগের সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আর্থিক খাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে। নজরুল চত্বর ঘোষণার বিষয়ে তিনি জানান, নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুলনাতেও নজরুলকে ঘিরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হবে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জাসাস প্রতিনিধি, নজরুল গবেষক, শিক্ষক, নাট্য ব্যক্তিত্ব, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় অংশ নেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও আর্কাইভসসহ প্রায় ২১টি দপ্তর এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। এছাড়া দেশের পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নিয়েও মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
আর্থিক খাতের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকটি কোম্পানির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার মধ্যে এস আলম গ্রুপের ঋণের বিষয়টিও রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরীক্ষায় প্রকৃত মেধার মূল্যায়নের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে পাস করানোর প্রবণতা শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।
তরুণদের পরিকল্পিতভাবে মাদকাসক্ত করার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য পর্যন্ত জড়িত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অবসরে যাওয়ার সময় একজন শিক্ষকের ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার এসব বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসে একবারে সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন, একেই বলে জনগণের প্রধানমন্ত্রী।
Leave a Reply