বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা বর্তমান সময়ে দেশটাকে গ্রাস করে ফেলেছে। সোমবার দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে না পারায় সুন্দর এই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। নেতাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা এবং জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে নিজেদের ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে দেশে অরাজকতা বাড়ছে।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস সরবরাহের অভাবে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সার সংকটে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ সফল হয়েছে। এটি কোনো জোটের ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং জনগণের দাবি। তিনি আরও জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি রয়েছে। এরপরও দাবি মানা না হলে সব বিভাগীয় শহরে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল—একটি মার্কায় এবং অন্যটি জুলাই আন্দোলনের সপক্ষে। ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাইয়ের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা ভুলে গেছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকার ঐক্যমত কমিশনে স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে উল্টো কাজ করছে। সংসদে তিনবার অধিবেশন হলেও দাবি না মানায় ১১ দলীয় জোট ওয়াকআউট করেছে। তিনি জানান, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে জরুরি অধিবেশন ডাকার চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের দাবির অবজ্ঞা করাকে জনগণের সঙ্গে তামাশা হিসেবে অভিহিত করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কি আদৌ সংবিধানসম্মত ছিল? জনগণের রায়ের ওপর সংবিধানের অবস্থান হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা চত্বরের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন এবং স্থানীয় মৎস্য চাষিদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিমল চক্রবর্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনজুমান সুলতানা, উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির রুস্তম আলী, টিএইচও ডা. আরেফিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু মুসাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ নেতারা ওয়াদা করে তা রাখছেন না এবং দেশের মানুষের কথা কেউ চিন্তা করছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমন্বয়হীনতা এবং জনগণকে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখার কারণে দেশে অরাজকতা বেড়েই চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১১ দলীয় জোট যে দাবিগুলো নিয়ে পথে নেমেছে, তা জনগণের দাবি; জোটের কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তেল নিয়ে তেলেসমাতির পাশাপাশি দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে ধারণ করে নির্বাচনের সময় আমাদের ভোট হয়েছিল দুটি।
Leave a Reply