জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক গৃহবধূ। তিনি উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী এবং এক সন্তানের জননী। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে তিনি প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিবের ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবেশী হিসেবে তাদের মধ্যে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিয়াম তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং নিয়মিত তার বাড়িতে যাতায়াত করত। একপর্যায়ে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে এলে সিয়াম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। সাবিনা বর্তমানে চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মা এবং তার স্বামী একটি এনজিওতে কর্মরত। সাবিনার অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ের উদ্দেশ্যে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের প্রবাসী সদরুল আলমের বাড়িতে গেছে। এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি সিয়ামের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে সাবিনা ইয়াসমিন অবস্থান করছেন এবং স্থানীয়রা সেখানে ভিড় করছেন। সাবিনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিয়াম তাকে বিয়ে না করলে তিনি চরম পদক্ষেপ নেবেন। তবে এ ঘটনার পর থেকে প্রেমিক সিয়াম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সিয়ামের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, তবে স্থানীয়ভাবে এর কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে ওই গৃহবধূ ঘোষণা দিয়েছেন, সিয়াম তাঁকে বিয়ে না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে মরহুম মোজা ব্যাপারীর নাতনি তার নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একদিন আমার প্রতিবেশী ভুট্টুম তাকে ঘরে দেখে ফেলেন৷ তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।
Leave a Reply