চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াছিনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবস্থানের গোপন সংবাদ পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি ও অস্ত্রের মজুতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে পুলিশ এ অভিযান চালায়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্যমতে, অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান এবং ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশি তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, পাহাড় কাটা এবং অবৈধ প্লট বিক্রির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করছে ইয়াছিন বাহিনী। বিশেষ করে আলীনগর এলাকাটিতে ইয়াছিন গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। নিজেদের দখলদারিত্ব বজায় রাখতে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এর আগেও বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছরের ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য নিয়ে সেখানে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ২২ জন আটক হলেও ইয়াছিন ও রোকন উদ্দিনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতারা তখন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। নতুন করে পাঁচ সহযোগী গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওই এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর আগে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে যৌথভাবে বড় ধরনের অভিযান চালায় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি।
Leave a Reply