নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭০ জন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কিশোর অপরাধপ্রবণতা রোধের লক্ষ্যে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। রোববারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আনা হয়েছে, ১০ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, হাতিয়া থানায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং ছয়জনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে; বাকি ৪১ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক ৩২ জনের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন এবং ২৮ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার এবং ১২ জনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের অন্যান্য তথ্যানুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৭ জন, কবিরহাট থানায় ৯ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৪ জন, সেনবাগ থানায় ৩ জন এবং চরজব্বর থানায় ৩২ জনকে আটক করা হয়। এসব কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং ও অপরাধ প্রতিরোধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কিশোরদের সঠিক পথে ফেরাতে অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মহলের অংশগ্রহণে সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান থাকবে।
Leave a Reply