যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ আটটি বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গ্রিন কার্ডের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। স্থানীয় কর্মীদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং নিশ্চিত করেছেন যে, এখন থেকে স্থায়ী লেবার সার্টিফিকেশন বা পিইআরএম-এর কোনো নতুন বা বিচারাধীন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। স্থগিতাদেশের তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি। ২০২৬ অর্থবছরের অভিবাসন তথ্য অনুযায়ী, এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য শীর্ষ আবেদনকারী তালিকায় ছিল আমাজন, টিসিএস, ইনফোসিস, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ তোলেন যে, মাইক্রোসফট এই অভিবাসন ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ এইচ-ওয়ানবি ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার কর্মীর গ্রিন কার্ডের সুবিধা গ্রহণ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের গত অর্থবছরের এইচ-ওয়ানবি আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের মেয়াদ বৃদ্ধি বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য, নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। এছাড়া তারা স্থানীয় ও বিদেশি সব কর্মীকে সমান পারিশ্রমিক দেয় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু আইটি প্রতিষ্ঠানই নয়, এক্সচেঞ্জ ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির শীর্ষ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন এবং এমআইটির মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে এই অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
তবে মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, ভিসা নীতি কঠোর করার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সংখ্যা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে তা মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Leave a Reply