1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
October 9, 2026, 8:52 am

শুধুমাত্র সন্দেহের বশে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে বহিষ্কার নয়

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, October 9, 2026
  • 4 দেখা হয়েছে

শুধুমাত্র সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেশছাড়া বা ডিপোর্ট করার আইনি এখতিয়ার রাজ্য প্রশাসনের নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই পর্যবেক্ষণ দেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উঠে আসে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি নির্দেশনার বিষয়টি। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই নতুন সরকার ‘ডিটেইন, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (আটক, বাতিল ও বিতাড়ন) নীতি ঘোষণা করে। এ বিষয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সুতরাং, যেকোনো ব্যক্তিকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা। রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার যুক্তি দেন যে, আটক ব্যক্তি হয়তো জাল বা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকায় নাম, নাগরিকত্ব এবং নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ

আবেদনকারীর আইনজীবীর তথ্যমতে, গত ৮ আগস্ট থেকে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া অস্পষ্ট জবানবন্দিকে পুঁজি করে ওই ব্যক্তিকে আটক করে রাখা হয়েছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দম্পতিকে দেশত্যাগের নির্দেশ এবং স্বামীকে আটকের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন তার স্ত্রী। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশছাড়া করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত থাকবে। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে, যা এই ক্ষেত্রে পালন করা হয়নি বলে আদালত মনে করছে। বিচারপতির মতে, কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়েছে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেবল এ ধরনের তথ্যের ওপর ভর করে কীভাবে একজন মানুষের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। গুটি কয়েক মানুষের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।

আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতে জোর দিয়ে বলেন, তার মক্কেল গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে আটক রয়েছেন। সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো নাগরিককে আটক রাখা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। শুনানিকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে কত মানুষ এই সীমান্ত অতিক্রম করেছেন? বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় মামলাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং যথাযথ বেঞ্চে শুনানির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ধরপাকড় চলছে। তাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কোনো রায় ছাড়াই বিএসএফের সহায়তায় জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নথিতে এই ব্যক্তিদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ আটকে রেখে সংক্ষিপ্ত ও অমানবিক প্রক্রিয়ায় দেশান্তর করা হতো। এর আগে এমন চারটি ভুক্তভোগী পরিবার, যার মধ্যে নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত ছিল, প্রায় এক বছর বাংলাদেশে অবস্থানের পর জুলাই মাসে আদালতের নির্দেশে মালদার মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে আসতে সক্ষম হন। বর্তমান হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে চলমান এই বিতর্কিত নীতি ও ধরপাকড় অভিযানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira