মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সামনে এখন মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনের ফলাফল রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ট্রাম্পের মনোযোগের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ধ্বংস করেছে। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শান্তিতে নোবেল না পেয়ে ট্রাম্পের কটাক্ষ, জবাবে ‘মেক শিটহাউস গ্রেট এগেইন’ প্রচার নরওয়ের।
ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আরও যে একটি বা দুটি স্থাপনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা চাইলে মাত্র ১০ মিনিটেই করা সম্ভব। তিনি বিশেষভাবে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এলাকার কথা উল্লেখ করেন। যদিও ওই পাহাড়ের গভীরে ইরানের কোনো গোপন পারমাণবিক স্থাপনা থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চর্চিত হলেও, ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। তবে আপনারা জানেন, তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।’। তবে আমরা চাইলে ১০ মিনিটেই তা করতে পারি।’।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকলেও ট্রাম্প দেশটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি এবং ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায়। আজ রোববার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেকোনো মাত্রার হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে, এক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে ইরানে হামলা হতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সংঘাত এড়াতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে।
তবে এসব আলোচনার মাধ্যমে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান সরকার উৎখাতের জন্য একে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সব মিলিয়ে দুই দেশের চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া এ সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply