চট্টগ্রাম বন্দরে এক ট্রেইলার শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর থেকে ট্রাক, প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার চালক-শ্রমিকেরা কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে সোমবার দুপুর ৩টা থেকে বন্দরের গেট দিয়ে কনটেইনারবাহী ট্রেইলার ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই অচলাবস্থার কারণে বন্দরের ভেতর থেকে আমদানি পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দরের গেট পাস ইস্যু করা নিয়ে ট্রেইলার শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেনের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোকতার হোসেনকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকেরা পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে বন্দরের চার নম্বর গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রাইম মুভার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের জানান, গেট পাসের নির্ধারিত ফি ৫৭ টাকা হলেও কিছু ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় মোকতার হোসেনকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন এবং সমাধানের প্রস্তাব দেন। তবে পরে চার নম্বর গেটে গেলে আরেকটি পক্ষ তাদের দিকে তেড়ে আসে। নিরাপত্তার কারণে তারা পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের কারণে বন্দরের বিভিন্ন গেটে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বন্দরের কনটেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার একক কনটেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। পরিবহন বন্ধ থাকায় আমদানি পণ্য খালাস ও কনটেইনার সরবরাহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
Leave a Reply