1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
October 5, 2026, 3:29 pm

যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Monday, October 5, 2026
  • 7 দেখা হয়েছে

যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহ পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনী বি-১ এবং বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো মোতায়েন রেখেছিল, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, বিমানঘাঁটিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে সেখান থেকে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে বাহিনীর চলাচল তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও, বর্তমানে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতেও রোববার বিমানগুলোর যুক্তরাজ্য ছেড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। পেন্টাগনের দাবি, তাদের বোমারু বিমানগুলো যেকোনো স্থান থেকে বা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করে মিশন পরিচালনার সক্ষমতা রাখে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তারা ঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে গতকাল আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১ বোমারু বিমানগুলোকে উড়ে যেতে দেখা গেছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহভাজন যানবাহন দেখার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রাথমিক তল্লাশির পর ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক। কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকেও পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, এ ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে, যদিও তেহরান এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি বড় ধরনের ঘটনার পর এটি ঘটল, যখন বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে, কিছু যানবাহন মার্কিন বিমানবাহিনী (ইউএসএফ) পরিচালিত ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল এমন খবর পাওয়ার পর ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে ভোরের দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ইরানের ওপর প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালাতে ঘাঁটিটি ব্যবহারের মার্কিন অনুরোধ অনুমোদন করার পর এই ঘাঁটি ইরানে হামলার কাজে ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, তাদের সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও যুক্তরাজ্য কেন তাদের মুক্তি দিল, তা নিয়ে তিনি বিস্মিত। ট্রাম্পের ভাষায়, তারা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের পরিকল্পনা করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বে থাকলে তাদের মুক্তি দেওয়া হতো না। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার ইরান-সংক্রান্ত মিশনে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এখান থেকে পরিচালিত অনেক বি-১ বোমারু বিমান বাঙ্কার বিধ্বংসী ও আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত ছিল। ইরানের পরমাণু বা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি মিশনে যাতায়াতসহ ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগত এবং আকাশপথে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হতো। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বরং সামরিক সিদ্ধান্ত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পেন্টাগন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই বিমান সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিমান প্রত্যাহারের মাধ্যমে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির দীর্ঘদিনের মার্কিন ব্যবহারের ধারায় একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হলো, যেখানে নিরাপত্তার উদ্বেগগুলো এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira