তুরস্কের সঙ্গে ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা ফের সক্রিয় করতে চায় বাংলাদেশ। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চললেও তা খুব একটা অগ্রগতি পায়নি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশ থেকে শিগগিরই একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তুরস্ক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেই সফরকালে তিনি তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ও দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন, যা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে ফল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তুরস্কের ফল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছেন মন্ত্রী, যা পাওয়ার পর তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শিল্প ও পরিবেশগত সুরক্ষায় তুরস্কের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও জাহাজভাঙা শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের বিশেষায়িত প্রযুক্তি (টিএসডিএফ) ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত রামিস সেন জানান, পরিবেশগত কড়াকড়ির ফলে তুরস্কে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণ কমেছে এবং এর পরিবর্তে তারা কৃত্রিম চামড়ার ব্যবহার ও কাঁচামাল আমদানির দিকে ঝুঁকছে।
পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত তুরস্কে আয়োজিত কমসেক সম্মেলন এবং ওয়ার্ল্ড হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি কমসেক সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান এবং তুরস্ক দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
Leave a Reply