রংপুর অঞ্চলে এখন আগাম জাতের আমন ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও, উঁচু জমিতে চাষ করা আগাম জাতের এই ধান এক মাস আগেই পাকার ফলে কৃষক তা ঘরে তুলছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা—কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে এবার ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যার মধ্যে আগাম জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ: হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ, ফিল্ড হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা। সদাই কমিয়ে আর্থিক চাপ সামলাচ্ছে মধ্যবিত্ত। হুতিদের হটিয়ে মোখা বন্দর পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর। চূড়ান্ত সুপারিশের ১০ মাস পরও ‘বেকার’ বিসিএস উত্তীর্ণরা। অবশিষ্ঠ দুই বিঘা জমির ধান এক সপ্তাহ পরে কাটা হবে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, উঁচুতে অবস্থিত এবং পানি জমে না এমন জমিতে এই ধান চাষ করা হয়। বন্যার প্রভাব এবার কম থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধান কাটার প্রক্রিয়া চলবে। এরপরই নভেম্বরের শুরুতে মাঠের মূল আমন ধান কাটার ধুম পড়বে। তিনি জানান, ধান কাটার পরপরই কৃষকেরা জমিতে ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে ভালো ফলন পাওয়ার স্বস্তির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। পাগলাপীর এলাকার কৃষক সুরেশ চন্দ্র বর্মণ (৬৫) জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সার, ডিজেল, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে এই বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। তিনি ৫ বিঘা জমিতে চাষ করে প্রতি তিন বিঘা থেকে ৪৯ মণ ধান পেয়েছেন। সুরেশ চন্দ্র জানান, আগাম জাতের ধানের ফলন সাধারণ জাতের চেয়ে বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়, তবে দ্রুত জমি খালি হওয়ায় সবজি চাষে লাভবান হওয়া সম্ভব। সক্রিয় হচ্ছে মক্কা জোট, সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা।
লালমনিরহাটের কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান জানান, ৬ বিঘা জমিতে তিনি ১০১ মণ ধান পেয়েছেন। সেখানে এবার খরচ হয়েছে ৮৭ হাজার টাকা, যেখানে গত বছর একই জমিতে ব্যয় ছিল ৭১ হাজার টাকা। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর দেলোয়ার হোসেন জানান, রোগবালাই কম হওয়ায় এবার ফলন আশানুরূপ পেয়েছেন। ৪ বিঘা জমিতে তিনি ৬৯ মণ ধান পেয়ে বর্তমানে সেখানে ফুলকপি লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্রহ্মপুত্র পাড়ের কৃষক রইছ আলী মণ্ডল জানান, এবার বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। চরের জমি খালি করে দ্রুত শীতকালীন ফসল চাষ করা তাদের মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে ধান কাটার পর রবি শস্যের আগাম চাষ কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে। কৃষকেরা এখন ধান শুকানো ও মাঠ প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত, যাতে শীতের শুরুতেই সবজি বাজারজাত করা যায়।
Leave a Reply