তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নিশ্চিত করেছেন যে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা পাঠালেও তুরস্ক ইয়েমেনে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক, কোনো আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়নি। অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানো আঙ্কারার পরিকল্পনার অংশ নয়। এ ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার এবং ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীদের চলমান হামলার মুখে সংহতি প্রকাশ করতে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথভাবে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ফিদান জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার জন্য কী ধরনের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন, তা নির্ধারণে তিন দেশের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। এর ভিত্তিতেই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সহায়তা প্রদান প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। তবে উড়োজাহাজ ও জনবলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি জানান, মক্কা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে উপস্থাপনের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এদিকে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় তুরস্ক অতিরিক্ত জনবল, অভিজ্ঞ পাইলট ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েনসহ বিভিন্ন উপায়ে সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটি পার্লামেন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।’। জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, ২০১০ সালের দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিতসংখ্যক সেনাসদস্য সৌদি আরবে পাঠানো হতে পারে। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
Leave a Reply