কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে মোট ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলা পুলিশের ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, কুমিল্লা শহরসহ জেলার যেসব এলাকায় বখাটে কিশোরদের দৌরাত্ম্য ও উৎপাত রয়েছে, মূলত সেসব স্থান চিহ্নিত করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। উঠতি বয়সি কিশোরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কিশোর ও তরুণদের অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলাজুড়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একযোগে কঠোর অভিযান শুরু হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ধাপে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা প্রদানের শর্তে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় বাকি ৬২৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
Leave a Reply