সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন সিলেটভিউ২৪ ডটকমের প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের মারধরের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর চড়াও হন।
আহত সাংবাদিক রেজা রুবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ছবি তুলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা হামলা চালান এবং স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এসময় তাদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। হামলা পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও কর্মবিরতির অজুহাতে তাদের ভর্তি নেওয়া হয়নি; পরে বাধ্য হয়ে তারা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অন্য সহকর্মীরা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। যাঁরা সেখানে ছিলেন, তাঁদের পুলিশ নিয়ে গেছে। এ সময় আরও কয়েকজন সহকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক রাকিন হান্না দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের জন্য বিপুল সংখ্যক রোগী থাকায় সিরিয়াল নিয়ে বিশৃঙ্খলা থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, রোগীর স্বজনদের মধ্যে কেউ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন, যার জেরে এমবিবিএস ও বিডিএস শিক্ষার্থীরা বাধা প্রদান করেন। সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, ওই ব্যক্তি আদৌ সাংবাদিক কি না তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৬০ জন রোগী ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক হুমায়ুন কবিরকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চৌহাট্টা মোড়ে সাংবাদিকরা অবস্থান নেন। তারা জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
Leave a Reply