বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে মৌ শিখা একটি পরিচিত ও নন্দিত নাম। পর্দায় চরিত্রমুখী অভিনয়ের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে নাটকে ‘মা’ চরিত্রের রূপায়ণে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। পাশাপাশি বোন বা ভাবীর মতো বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি অগণিত দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে বর্তমানের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের শুরুর গল্প অনেকের অজানা। ২০০০ সালে আয়োজিত ‘মিলেনিয়াম ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে তাঁর পথচলার সূচনা হয়। তবে তাঁর মিডিয়া জগতের শুরুর পথচলা সম্পর্কে অনেকেই হয়তো বিশদ জানেন না—২০০০ সালে আয়োজিত ‘মিলেনিয়াম ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।
অভিনয়ের প্রতি মৌ শিখার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল অনেক আগে থেকেই, যখন তিনি বিখ্যাত নাট্যদল ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলের হয়ে ‘জনতার রঙ্গশালা’, ‘বিবিসাব’ ও ‘চাঁদ বণিকের পালা’-র মতো সফল মঞ্চনাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কলকাতা সফরও করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মৌ শিখার ছোটপর্দায় অভিষেক হয় ‘গন্তব্যে অতঃপর’ নাটকের মাধ্যমে। পরবর্তীতে শিহাব শাহীন, মাবরুর রশীদ বান্নাহ, সরদার রোকন ও ইমরাউল রাফাতসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতাদের নির্দেশনায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। মহিদুল মহিমের ‘গোলাপী কামিজ’ ও রুবেল হাসানের ‘রাজকুমার’ নাটকগুলো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত কাজ, যেখানে অপূর্বের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্রের রুপালী পর্দাতেও মৌ শিখা নিজের অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের কালজয়ী সিনেমা ‘মনপুরা’ দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু। এর পরে তিনি ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ওপার বাংলার ‘নিরীক্ষণ’ ও ‘চালবাজ’ সিনেমাতেও তাঁকে দেখা গেছে। বর্তমানে মিজানুর রহমান লাবুর ‘জমজ ভূতের গল্প’ ও অলোক হাসানের ‘নাকফুল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মোঃ আব্দুল আউয়াল ও সেলিনা সুলতানার কন্যা এবং তিন সন্তানের জননী—দুই ছেলে শিপু ও শুভ এবং মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে তাঁর সংসার জীবন। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত কালজয়ী সিনেমা ‘মনপুরা’ দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে।
১০ জুন জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেত্রী তাঁর সুদীর্ঘ অভিনয় সফর প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, অভিনয়ই তাঁর বেঁচে থাকার শক্তি। তিনি বলেন, অভিনয়ের প্রতি প্রবল ভালোবাসা ও আগ্রহ থেকেই আমার পথচলা। প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জিং এই কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা কঠিন হলেও তিনি সবসময় ভালো একটি চরিত্রের অপেক্ষায় থাকেন। মনের মতো চরিত্র পেলে কিংবা পেশাগত প্রয়োজনে যে কাজই তিনি করেন, তা পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে শেষ করতে চান। তিনি আরও বলেন, অভিনয় করতে করতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে চাই। দর্শকদের অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসাই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। কখনো মনের মতো চরিত্র পাই, আবার কখনো পেশাগত তাগিদে তা মেনে নিয়ে অভিনয় করি।
Leave a Reply