1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
October 11, 2026, 3:31 am

মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না: ভারতের প্রধান বিচারপতি

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, October 9, 2026
  • 10 দেখা হয়েছে

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে ডাকা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখা ও ১০ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন, ‘মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না।’ টানা ১০ ঘণ্টা রেলস্টেশনে ট্রেন আসা–যাওয়াও বন্ধ রাখা যায় না। সেই বিধিনিষেধ কোথায় কতটা, তা জনসাধারণকে ঠিকভাবে জানিয়েও দিতে হবে। তিনি বেঙ্গালুরুর বিক্ষোভ সমাবেশে যোগও দিয়েছিলেন। দিল্লির রেলস্টেশনগুলোতে আগামীকাল ১০ ঘণ্টা কোনো ট্রেন যাওয়া–আসা করবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাবলী

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ দিল্লির জনজীবন সচল রাখতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্দোলন মোকাবিলার নামে একটি শহরকে অচল করে দেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর অযৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আদালত বলেছে, নিয়ন্ত্রণ এক বিষয়, আর সবকিছু স্তব্ধ করে দেওয়া অন্য বিষয়; সরকার এভাবে সবকিছু বন্ধ করতে পারে না। যদি যন্তর মন্তর বিক্ষোভ দেখানোর উপযুক্ত স্থান না হয়, তবে সরকারকে এমন এলাকা নির্ধারণ করতে হবে যেখানে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, জনদুর্ভোগ এড়াতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যারিকেড শিথিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রেন চলাচল কিংবা শহরের অভ্যন্তরে যান চলাচল এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় পড়তে না হয়। সিজেপির ওই আন্দোলনে শরিক হতে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। শনিবারের এই অভিযান রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লির পুলিশ প্রশাসন একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেয়।

বিশিষ্ট আইনজীবীদের সওয়াল

কপিল সিব্বাল, গোপাল শংকরানারায়ণ, অভিষেক মনু সিংভি, বৃন্দা গ্রোভার, এন হরিহরণ এবং প্রশান্ত ভূষণসহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত হয়ে এই পরিস্থিতির দ্রুত বিহিত চান। তাঁরা আধা সামরিক বাহিনীর ২৩ হাজার জওয়ান মোতায়েন ও শহর অচল করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে জানতে চান, দেশে আসলে কী ঘটছে। দেশের অন্যত্র ব্যাপক ধরপাকড় করে হাজার হাজার তরুণকে আটক করা হয়েছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সরকারি পদক্ষেপ

  • শনিবার ১০ অক্টোবর ‘যন্তর মন্তর ২.০’ অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
  • আন্দোলনের শরিক হিসেবে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন, আম আদমি পার্টি এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ রয়েছে।
  • সরকার পরিস্থিতি রুখতে দিল্লির সীমান্তে কড়া নজরদারি, হাজার হাজার তরুণকে আটক এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
  • দিল্লির হোটেলগুলোতে অতিথি গ্রহণ দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস সরকারের কঠোরতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি জরুরি অবস্থার চেয়ে কম কিছু নয়। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন ‘আইসা’-এর নেত্রী নেহা বোরা ভিডিও বার্তায় বলেন, সরকার খোলাখুলি জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তিনি আন্দোলনকারীদের পুলিশের বাধার মুখেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা আজ শুক্রবার রাত আটটায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে পুরো বিষয়টি অবহিত করার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ১০ জন নেতাকে বৈঠকের অনুমতি দিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira