কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও এর সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নতুন বাহিনীর নাম দিয়েছেন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআইএফ)। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে এআই খাতের সমন্বয় বাড়ানোই এই নতুন বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য। বিবিসি জানিয়েছে, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন এ প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করাই নতুন এই বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে এআই-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্বও থাকবে এসআইএফের।
এই টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সেবাদাতা সংস্থা এবং শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দেবে।
নতুন এই টাস্কফোর্সে জে ক্লেটনের পাশাপাশি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার সদস্য হিসেবে থাকছেন।
প্রযুক্তির নাম পরিবর্তনের বিষয়েও নতুন নির্দেশনা এসেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশে সরকারি দাপ্তরিক কাজ, ওয়েবসাইট ও চিঠিপত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমর্থন করেছেন এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্সএআই’-এর নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বা ‘কৃত্রিম’ বলে মনে করায়। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এ নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলতে আরও উন্নত ধরনের প্রযুক্তি বোঝাতে পারে, ফলে এ নাম ব্যবহার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। গত আগস্টে তিনি এ পদে যোগ দেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
জে ক্লেটন বর্তমান দায়িত্বে আসার আগে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল প্রসিকিউটর ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনেটের শুনানিতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একাধারে বড় সুযোগ ও হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যার ভারসাম্য রক্ষার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার জানিয়েছেন, তিনি ক্লেটনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ছয়টি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের নিয়ে একটি এআই চুক্তিতে সই করেছেন ট্রাম্প।
প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন। স্যাম অল্টম্যানসহ ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের নির্বাহীরা প্রযুক্তির সুফলের পাশাপাশি এর ঝুঁকিগুলোও বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প সরাসরি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কোম্পানিগুলোর স্বনিয়ন্ত্রণের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ডেভিড স্যাকস ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এআই সংক্রান্ত তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এআই জার বা ফোর্স গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে আলোচনায় ছিল। এছাড়া বর্তমানে সামরিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ইরানের প্রতি সামরিক সতর্কবার্তা ও কিয়েভ-মস্কো-ওয়াশিংটন বৈঠক অন্যতম।
Leave a Reply