দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও কর্মকর্তাদের মতে, নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষকদের পদায়নে জটিলতা এবং পেশার আকর্ষণ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ হাজার ৬৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৯০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার তথ্য ব্যবস্থার (ইএমআইএস) নথি বলছে, এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৮৬১টিতে কোনো আইসিটি শিক্ষক নেই। এছাড়া ২ হাজার ৭৪৪টিতে গণিত এবং ২ হাজার ৬২৫টিতে ইংরেজির শিক্ষক পদ শূন্য পড়ে আছে। মাহফুজ আনামের কলাম / গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কই আসল। এক বছরের মধ্যে ‘সার্বভৌম এআই’ চালু করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। গত বছরের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত ১০ সদস্যের মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক মনজুর। সেসব সুপারিশের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবও ছিল।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত ২৩ এপ্রিল সংসদে জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অন্তত ২ হাজার ৮৪২টি শিক্ষক পদ শূন্য। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য পদের সংখ্যা ৭৭ হাজার ২২৭টি। এই পরিস্থিতি নিরসনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মঈনউদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল জানান, অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয় ও পিএসসিকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সব শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হলেও বর্তমান সংকট পুরোপুরি কাটবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও দুই বা তিন দফায় নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি জানান। আশুগঞ্জে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়ছে। শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমোদিত ৫৩টি পদের অর্ধেকই শূন্য। সেখানে ১২০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ২৭ জন শিক্ষক কর্মরত। ইংরেজি, গণিত ও বাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষককে সপ্তাহে ১৫-১৭টির পরিবর্তে ২৫-২৭টি ক্লাস নিতে হচ্ছে। একই জেলার পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্রও একই রকম। এছাড়া নোয়াখালী, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন বিদ্যালয়েও শিক্ষক সংকট প্রকট। রাঙ্গামাটিতে ১ হাজার ৭০০টি পদের বিপরীতে ৬৫৭টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এসব শিক্ষককে সরকার নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত পাঁচ বছর চাকরি করতে হবে।
জাতীয় পর্যায়ের সমীক্ষা ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস ২০২৩’ অনুযায়ী, শিক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর দক্ষতা সর্বনিম্ন স্তরে। ২০১৯ সালের তুলনায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে। অধ্যাপক মনজুর আহমেদের মতে, বিদ্যালয়ে যথাযথ পাঠদানের অভাবে শিক্ষার্থীরা কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের দিকে ঝুঁকছে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান বৈষম্যমূলক হয়ে পড়ছে। তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা আকর্ষণীয় না হওয়ায় মেধাবীরা এই পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর আওতায় স্নাতকদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতা ও পেশাগত মর্যাদা দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগ দেওয়া হবে।
Leave a Reply