1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
October 10, 2026, 12:27 am

নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ব্যস্ত দিল্লির দৌড়ঝাঁপ

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, October 7, 2026
  • 15 দেখা হয়েছে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী হঠাৎ করেই নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সোমবার থেকে তিনদিনের এই সফরে তিনি ভারতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসেছেন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে ভারতের অবস্থান এবং বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এই সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ত্রিবেদী তার দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও সংবেদনশীলতাকে নির্দেশ করে। গত এক সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও রেখেছেন।

কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজনীতিবিদ ত্রিবেদীকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যেন সরাসরি যোগাযোগ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ সুগম থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার আপত্তি থাকলেও তার এই বিশেষ নিয়োগ মোদির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে, যা ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত সরকারিভাবে প্রকাশ না করা হলেও, এটি যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই হয়েছে, তা স্পষ্ট। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী অংশের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

মঙ্গলবার ত্রিবেদী ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধির উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক নিরাপত্তা স্বার্থ এবং সামরিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি এই বৈঠকটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া তিনি নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি তা আরও সুদৃঢ় করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

দিল্লির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, ত্রিবেদী ঢাকায় বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে যে মনোভাব আঁচ করতে পেরেছেন, তা সরাসরি দিল্লিকে অবহিত করতে এসেছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার বিষয়ে কোনো বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে তিনি কাজ করছেন কি না—তা নিয়েও কূটনৈতিক পাড়ায় আলোচনা চলছে। প্রায়দিনই তিনি বাংলাদেশ সরকারের কোনো না কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টার সঙ্গে মিলিত হন। দিল্লিতে কূটনৈতিক মহলেও ত্রিবেদীর দিল্লি ছুটে আসা এবং একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের বিষয় নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তাতে ত্রিবেদীর ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। তাদের মতে, ত্রিবেদী প্রস্তাবটা ছুঁড়ে দিতে পারেন।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্তরে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ত্রিবেদীর একের পর এক বৈঠক ঢাকার সঙ্গে দিল্লির বিদ্যমান সম্পর্কের নতুন কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ৮-৯ অক্টোবরের দুদিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira