দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড়ো হাওয়া বইলেও ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন কখনোই মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এ বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। এম জে আকবর বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্থান-পতন থাকাটা স্বাভাবিক। তবে যেকোনো সমস্যা সমাধানে কেবল ‘কী সম্ভব’ তা অনুসন্ধান করলেই হবে না, বরং ‘কেন বিষয়টি অসম্ভব নয়’—এই প্রশ্নটিও উত্থাপন করা প্রয়োজন। তার মতে, এমন দৃষ্টিভঙ্গিই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় রাষ্ট্রই তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে বাংলা ভাষার শক্তি ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যই দেশটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা নিরসনে গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনীতি ও সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে এম জে আকবর বলেন, যদি কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা না হয়, তবে পুরো বিশ্ব ব্যবস্থা আরও বড় বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হতে পারে। তিনি কোনো যুদ্ধকে অবৈধ আখ্যায়িত করার আগে সেটির মূল উৎস ও পটভূমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। এম জে আকবরের মতে, বিংশ শতাব্দী ছিল তিনটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী, যেখানে স্নায়ুযুদ্ধ বা কোল্ড ওয়ারও ছিল এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা শীতল হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত তীব্র। সেই সংঘাতগুলোর মূল কারণ ছিল বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর রেষারেষি। একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সংঘাতগুলো আগের মতো একক কোনো বিশ্বযুদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে একের পর এক যুদ্ধ চলছে যা বিভিন্ন সময়ে শুরু হয়ে সাময়িকভাবে থেমে গেলেও কখনোই পুরোপুরি নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
Leave a Reply