1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
October 4, 2026, 11:09 am

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে চরম ব্যর্থতা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, October 2, 2026
  • 23 দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘ দুইশ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরকারি উদ্যোগটি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ক্রিস্টা পাইকের ওপর বুধবার রাতে এই প্রক্রিয়াটি চালানো হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর শরীরে দুই দফা মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাণঘাতী রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের পরও তিনি বেঁচে যান, যা অঙ্গরাজ্যটির বিচার ও কারা ব্যবস্থার অদক্ষতা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয় বুধবার রাতে। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে কারাগারে ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অব্যবস্থাপনায় পূর্ণ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, দুটি ডোজ দেওয়ার পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং অসংলগ্নভাবে নাক ডাকছিলেন। এর আগে অনেক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন এক সাংবাদিক। আইনি দলের তথ্যমতে, পাইকের শিরায় আইভি লাইন স্থাপন করতেই কারা কর্মকর্তাদের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছিল এবং তাঁর বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুঁই ফোটানোর প্রয়োজন হয়।

ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ক্রিস্টা পাইক চিৎকার করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর হাত ফেটে যাওয়ার মতো তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে। এর পরপরই তিনি গোঙাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে নাক ডাকতে থাকেন। বর্তমানে তিনি রিভারবেন্ড কারাগার থেকে অন্য একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জীবন বাঁচানোর চিকিৎসায় রয়েছেন। কার্যকরকক্ষের পর্দা বারবার টেনে এবং ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি উপস্থিতদের কাছে চরম অব্যবস্থাপনারই নজির হিসেবে ধরা দিয়েছে। আইনি প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো। ঘটনার একপর্যায়ে কার্যকরকক্ষের পর্দা বারবার টানা ও ফেলা হচ্ছিল, যা ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

এই ঘটনার পরপরই টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি চলতি বছরের অবশিষ্ট সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও প্রাণঘাতী রাসায়নিকের মান নিশ্চিত না থাকার কারণে একবার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল। পাইকের আইনজীবী র‌্যান্ডি স্পাইভি গভর্নরের কাছে সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে বলেছেন, পাইক মৃত্যুর ভয় পাচ্ছিলেন না, বরং তাঁর মূল শঙ্কা ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও চরম যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের দূরে রেখে অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ওষুধ প্রয়োগ করায় এই পদ্ধতি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে বৈদ্যুতিক চেয়ারে ব্যর্থতার নজির থাকলেও প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পর কোনো বন্দীর বেঁচে ফেরার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি এবং এর মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira